জীবন বাচাতে মাঝ রাতে পদত্যাগ করেন মশিউজ্জামান

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার অ্যাসোসিয়েশন) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার চারদিন পরও ঘোষণা হয়নি ভোটের ফলাফল। এরইমধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী ও তার সমর্থকদের হট্টগোল ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের পর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে পদত্যাগ করেছেন নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির প্রধান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামান। ফলে ভোটের এ ফল কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে, তা নিয়েই এখন দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির প্রধান মশিউজ্জামান শনিবার রাতে এস এ টিভি নিউজকে বলেন , আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, তাই বলেছি যে শুক্রবার (১৮ মার্চ) বিকেলে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে তার (আবদুন নূর দুলালের) আবেদন নিষ্পত্তি করবো। পুনরায় ভোট গণনা করা হবে এমন কথা আমি বলিনি। আমি জান বাঁচানোর জন্য পদত্যাগ করেছি।এ ঘটনা আমাকে বড় দুঃখ দিয়েছে। আমি অপমানিত হয়েছি, কারণ আমাকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল।

এ বছর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার অ্যাসোসিয়েশন) নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতি দুইজন, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সম্পাদক দুইজন, ট্রেজারার এবং সদস্য পদে সাত জনসহ মোট ১৪টি পদে পাঁচ হাজার ৯৯১ জন ভোটার ভোট দেন

 

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের এ সংগঠনের ২০২২-২৩ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের দুদিনব্যাপী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় গত মঙ্গল ও বুধবার (১৫ ও ১৬ মার্চ)। পরদিন বৃহস্পতিবার ভোটের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু এরইমধ্যে ভোটে ‘কারচুপি ও বাতিল ভোট গণনা’র অভিযোগ তুলে সম্পাদক পদে ভোট পুনর্গণনা চেয়ে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়কের কাছে আবেদন করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী আবদুন নূর দুলাল। এ পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

দুলালের করা অভিযোগ ও ভোট পুনর্গণনা দাবির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে মশিউজ্জামান তাৎক্ষণিকভাবে জানান, শুক্রবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৩টায় আবদুন নূর দুলালের আবেদন দুজন সম্পাদক প্রার্থীর উপস্থিতিতে (রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ) নিষ্পত্তি করবেন। এরপর আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, শুক্রবার বিকেলে শুধু সম্পাদক পদের ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতেই পদত্যাগ করেন মশিউজ্জামান।

আইনজীবীরা বলছেন, সম্পাদক পদে পুনরায় ভোট গণনা চেয়ে এক প্রার্থীর আবেদন এবং পরে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়কের পদত্যাগে ভোটের ফলাফল কবে জানা যাবে, তা নিয়ে এখন এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নিজের পদত্যাগ বিষয়ে মশিউজ্জামান শনিবার রাতে জাগো নিউজকে বলেন, সমিতির গঠনতন্ত্রে পুনরায় ভোট গণনার বিধান নেই। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) রাত ১টায় সমিতির বিদায়ী কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছি। এখন কার্যনির্বাহী কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

এবারের নির্বাচনে মোট আট হাজার ৬২৩ জন ভোটারের মধ্যে দুদিনে ভোট দিয়েছেন পাঁচ হাজার ৯৯১ জন ভোটার। এর মধ্যে বুধবার (১৬ মার্চ) তিন হাজার ৩০০ জন এবং প্রথম দিন মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) ভোট দেন দুই হাজার ৮১৭ জন ভোটার।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.