প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী – ম্যামথ

ম্যামথঃ

ম্যামথ হচ্ছে বিলুপ্ত ম্যামুথুসগণের একটি প্রজাতি, সাধারণভাবে লম্বা, বাঁকানো শুঁড়বিশিষ্ট, এবং উত্তর গোলার্ধের প্রজাতিগুলো লম্বা চুলবিশিষ্ট। তারা প্লায়োসিন যুগ থেকে হলোসিন যুগের মাঝামাঝি কালে এশিয়া, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকায় বাস করত যা প্রায় ৫ মিলিয়ন থেকে ৪,৫০০ বছর পূর্বে। এঁরা আধুনিক হাতির খুব ঘনিষ্ঠ পূর্বসূরী। এই প্রাণীটিকে হাতির আদিরূপ মনে করা হয়।
এশিয়া, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকায় পাওয়া যেত।

ম্যামথেরা-ম্যামুথাস:

এক প্রজাতির ম্যামথের মৃতদেহ পাওয়া গেছে যারা আকার আয়তনে হাতীর মত দেখতে হলেও হাতির চেয়েও বেশ বড় প্রানী ছিলো ম্যামথেরা। বিশাল গজদন্ত ছিলো এদের, কোন কোন গজদন্ত থাকতো ১৩ ফুট বা ৪ মিটার লম্বা। সবচে’ বড় যে ম্যামথের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে তার ওজন ছিল ৯ টন আবার কতগুলো ম্যামথ ছিল অনেক ছোট। উচ্চতা থাকতো সমগোত্রীয় হাতীর মতই, কোন কোন ম্যামথ কাঁধের জায়গায় ১৩/১৪ ফুট উঁচু হলেও অধিকাংশ ম্যামথ ছিল আধুনিক এশিয়ান হাতীর মতই।

এদের মাথার দিক অপেক্ষাকৃত উচু এবং লেজের দিক ক্রমশঃ ঢালু হত। কাঁধ থাকত সবচে’ উঁচুতে আর বেশ বড়সড় কুজ থাকত কাধের উপর। এ পর্যন্ত অধিকাংশ ম্যামথের মৃতদেহাবশেষ পাওয়া গেছে উত্তর গোলার্ধে। ইউরেশিয়ার উত্তরাঞ্চল, রাশিয়ার উত্তরাংশে সাইবেরিয়ায়, আমেরিকা আলাস্কা, কানাডার উত্তর অংশে আলবার্টায়। ইউরোপের প্রাচীন গুহামানবদের আঁকা ছবিতেও দেখা মেলে এদের। শেষ ম্যামথের সন্ধান পাওয়া যায় সাইবেরিয়ার র‍্যান্গেল দ্বীপে ( Wrangel Island ) ১৬৫০ খৃস্টপুর্বাব্দে । বরফ অঞ্চলের প্রানী হওয়ার কারনে দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে দেহ ঢাকা থাকত বড় বড় লোমে। এ জন্যে ম্যামথদের লোমশ হাতীও বলা হয়ে থাকে।

লোমশ ম্যামথ (Mammuthus primigenius):

ম্যামথের একটি বিলুপ্ত প্রজাতি। এই প্রজাতিটি প্লাইস্টোসিন কালে পৃথিবীতে টিকে ছিল এবং ম্যামথ প্রজাতির মধ্যে সর্বশেষ প্রজাতি এই লোমশ ম্যামথ। পূর্ব এশিয়ার ম্যামথ অঞ্চল থেকে প্রায় ৪ লক্ষ বছর আগে লোমশ ম্যামথের উত্থান ঘটে। এশীয় হাতিকে এই লোমশ ম্যামথের দূরবর্তী আত্মীয় বলা যায়। প্রাক-ঐতিহাসিক প্রাণী প্রজাতির মাঝে লোমশ ম্যামথের প্রকৃতি ও আচরণ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করা হয়েছে। সাইবেরিয়া ও আলাস্কায় এই ম্যামথের কঙ্কাল, দাঁত, পাকস্থলী, মল এমনকি দেহাবশেষ বরফে আচ্ছ্বাদিত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন গুহাচিত্রেও চিত্রাঙ্কিত লোমশ ম্যামথের জীবনযাত্রা নিয়ে আভাষ পাওয়া যায়। ১৭শ শতকের দিকে ইউরোপের ম্যামথের পরিচয় পাওয়ার আরো অনেক আগে থেকেই এশিয়ায় ম্যামথের অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল। বিভিন্ন বিতর্ক থাকলেও ১৭৯৬ সালে জর্ক ক্যুভিয়ে হাতির বিলুপ্তপ্রাপ্ত প্রজাতি হিসেবে ম্যামথকে তালিকাভূক্ত করেন।

লোমশ ম্যামথ এর আকৃতিঃ

লোমশ ম্যামথ আকৃতিতে প্রায় আধুনিক আফ্রিকান হাতির ন্যায় ছিল। পুরুষ ম্যামথের কাঁধের উচ্চতা ২.৭ এবং ৩.৪ মি (৮ ফু ১০ ইঞ্চি এবং ১১ ফু ২ ইঞ্চি)এবং ওজন ৬ মেট্রিক টন পর্যন্ত হত। নারী ম্যামথের কাঁধের উচ্চতধেরপর্যন্ত হত। এরা ওজনের দিক দিয়ে ৪ মেট্রিক টন (প্রায়) হত। বাচ্চা ম্যাম্থের ওজন ৯০ কিলোগ্রাম (২০০ পাউন্ড) হত। শেষ বরফ যুগের ঠান্ডা পরিবেশে লোমশ ম্যামথ সহজেই মানিয়ে নিয়েছিল। শরীরের লোমস বহির্ভাগ অনেকটা চাদরের মতো শীত থেকে এদের নিরাপত্তা দিত। শীতের আধিক্য থেকে রক্ষায় এদের ছোট কান ও লেজ বেশ কার্যকরী ছিল। অবশ্য লোমশ ম্যামথের গজদন্ত বিশাল আকৃতির ছিল। এদের গজদন্ত এক জীবনে প্রায় ছয় গুণ বড় হত। লোমশ ম্যামথের ব্যবহার আধুনিক হাতির ন্যায়ই ছিল। দাঁত ও শুড়ের ব্যবহার একই ভাবে যুদ্ধ এবং জিনিসপাতি ধ্বংসের কাজেও ব্যবহার করা হত। তৃণভোজী লোমশ ম্যামথ সম্ভবত ৬০ বছর আয়ুষ্কাল পেতো। উত্তর ইউরেশিয়া ও ঊত্তর আমেরিকার ম্যামথ অঞ্চলে লোমশ ম্যামথের বসতি বিরাজ করেছিল।

লোমশ ম্যামথ এর বাসস্থলঃ

পশমী ম্যামথেরা আদিম মানুষের সময়ে সহাবস্থান করতো, যারা ম্যামথদের হাড় ও দাঁত অলঙ্কার, সরঞ্জাম হিসেবে ও বাসস্থান নির্মাণের জন্য ব্যবহার করত এবং খাদ্যের জন্য শিকার করত | ম্যামথেরা এদের মূল ভূখণ্ড থেকে প্লাইস্টোসিন যুগের শেষে অর্থাৎ ১০০০০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়, সম্ভবত জলবায়ু পরিবর্তনের দরুন এবং ফলস্বরূপ বাসস্থান সংকোচন, মানুষের দ্বারা শিকার, অথবা এই দুটি কারণের সংমিশ্রণের প্রভাবে| ম্যামথেরা বিচ্ছিন্ন সংখ্যায় ৫৬০০ বছর আগে পর্যন্ত সেন্ট পল দ্বীপে এবং ৪০০০ বছর আগে পর্যন্ত ভ্রাংগেল দ্বীপে বেঁচে ছিল। এদের বিলুপ্তির পরও, মানুষ এদের দাঁত কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে যেতে থাকে, যার প্রচলন আজও অব্যাহত। এই প্রজাতিকে বিভিন্ন প্রকারে পুনঃনির্মিত করা যেতে পারে বলে প্রস্তাবিত হয়েছে, কিনতু এদের একটিও এখনো পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

শ্রেণিবিন্যাসঃ

অধিকাংশ বিলুপ্তপ্রাপ্ত হাতির ব্যাপারে ইউরোপীয়রা মূলতঃ বাইবেল থেকেই জানতো। ঐতিহাসিক প্রাণী হিসেবে এদেরকে অনেক ক্ষেত্রেই বিশালাকার দৈত্যের সাথে তুলনা করা হয়েছে। রোমান প্রজাতন্ত্রের সময়কালে ইউরোপে আধুনিক হাতির আবির্ভাব ঘটে ক্রয়ের মাধ্যমে। উদাহরণ হিসেবে হ্যানিবলের যুদ্ধ হাতির কথা উল্লেখ করা যায়। এই প্রজাতি উত্তরাঞ্চলে বসবাস করতো। ইউরোপীয় বিজ্ঞানী হানস স্লোয়েন প্রথম কোন ইউরোপীয় হিসেবে সাইবেরিয়ায় ফসিলাকারে প্রাপ্ত লোমশ ম্যামথের দাঁত ও গজদন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।স্লোয়েনই প্রথম এই দাঁত ও গজদন্ত যে হাতির তা সনাক্ত করেন। স্লোয়েন বাইবেলে বিবৃত মহাপ্লাবণের দ্বারা লোমশ ম্যামথের সুমেরুতে উপস্থিতির কথা ব্যাখ্যা করেন। তিনি সাইবেরিয়ায় পূর্বে ট্রপিকাল আবহাওয়া থাকলেও মহাপ্লাবণে এই আবহাওয়া পরিবর্তিত হয় এবং লোমশ ম্যামথ মাটিচাপা পড়ে বলে উল্লেখ করেন। অন্যরা অবশ্য স্লোয়েনের মত থেকে কিছুটা ভিন্ন মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা লোমশ ম্যামথ মহাপ্লাবনের পানিতে ট্রপিক অঞ্চল থেকে সুমেরু অঞ্চলে ভেসে এসেছে বলে উল্লেখ করেন। স্লোয়েনের বিজ্ঞানপত্র যুক্তরাজ্য ও সাইবেরিয়া ভ্রমণকারীদের বর্ননা এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাড়ের ভিত্তিতে ছিল। তিনি এই হাতি তদবধি টিকে আছে কিনা এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন উত্তর দিতে পারেননি। ১৭৩৮ সালে জার্মান প্রাণিবিজ্ঞানী জোহান ফিলিপ ব্রেয়েন ম্যামথের ফসিল যে এক ধরণের হাতির সে ব্যাপারে মন্তব্য করেন। তবে তিনি মেরু অঞ্চলের প্রাণী কীভাবে সাইবেরিয়ার মতো ঠান্ডা অঞ্চলে এলো সে ব্যাপারে সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি সম্ভববত মহাপ্লাবণে এরা ভেসে এসেছে বলে উল্লেখ করেন। ১৭৯৬ সালে ফ্রান্সের দেহবিজ্ঞানী জর্জস ক্যুভিয়েঁ প্রথম লোমশ ম্যামথকে সুমেরু অঞ্চলে ভেসে আসা আধুনিক হাতি নয় বলে সনাক্ত করেন। তিনিই লোমশ হাতিকে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে সনাক্তকরণে সক্ষম হন। তিনি লোমশ হাতি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হাতি প্রজাতি বলে যুক্তি দেন , যা সেই সময়ে খুব একটা গ্রহণযোগ্য যুক্তি ছিল না।

২০০৫ সালে বিজ্ঞানীরা মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনোম দ্বারা লোমশ ম্যামথের সম্পূর্ণ প্রোফাইল দাঁড় করান। এতে এশীয় হাতি (Elephas maximus)ও লোমশ ম্যামথের মধ্যকার বিবর্তনীয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়। ২০১৫ সালের একটি ডিএনএ রিভিউ লোমশ ম্যামথের সাথে এখন অব্দি বেঁচে থাকা প্রাণীর মাঝে এশীয় হাতি সর্বাধিক সম্পর্কযুক্ত বলে নিশ্চিত করে। প্রায় ৬ মিলিয়ন বছর আগে আফ্রিকা হাতি (Loxodonta africana) এই দল থেকে আলাদা হয়ে গেছে। অনেক গবেষকই নিয়ান্ডারথাল জিনোমের আগে লোমশ ম্যামথের জিনোমই হবে প্রথম কোন বিলুপ্ত প্রাপ্ত প্রাণীর নিউক্লিয়ার জিনোম সিকুয়েন্স বলে ধারণা করেছিলেন। নিউক্লিয়ার জিনোম সিকুয়েন্সিং করতে একটি দল প্রায় ২০ হাজার বছর পুরনো ম্যামথের চুল এবং আরেকটি প্রায় ষাট হাজার বছর আগে মৃত ম্যামথের চুলের ফলিকল থেকে ডিএনএ এক্সট্রাক্ট করে। ২০০৮ সালে প্রাপ্ত এনালাইসিস থেকে লোমশ ম্যামথ ও আফ্রিকান হাতি প্রায় ৯৮.৫৫% থেকে ৯৯.৪০% আইডেন্টিকাল বলে তথ্য পাওয়া যায়। ২০১২ সালে ৪৩ হাজার বছর পুরনো লোমশ ম্যামথ থেকে প্রোটিন সংগ্রহ করে সনাক্ত করা সম্ভবব হয়।

ম্যামথের আকৃতিঃ

বিশাল দেহী, ছোট কান (হাতির তুলনায়), বিশাল দাঁত, লোমে ভরা দেহ আর বিশাল বড় শুঁড়। আকৃতিতে হাতির মত হলেও আকার কিন্তু হাতির তুলনায় অনেক বড়। প্রাগৈতিহাসিক সময়কার এই প্রানী। বিলুপ্ত ঘটেছে প্রায় ৫ মিলিয়ন বছর আগে।
২০১০ সালে, রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তর পশ্চিম দিকের শহর “ইয়ামাল পেনিনসুলা” (Yamal Peninsula), আর এই শহরেই খুঁজে পাওয়া গেছে প্রায় অক্ষত এক ম্যামথের বাচ্চার দেহ। জানেনতো রাশিয়া শীত প্রধান দেশ আর এই কারনেই হয়ত অক্ষত রয়ে গেছে এই ৩৯০০০ বছর পুরাতন ম্যামথের বাচ্চার দেহ। এটি এ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সব থেকে অক্ষত ম্যামথ দেহ।

এই ম্যামথ বাচ্চাটির বয়স ছিল ১০ বছর যখন সে মারা যায়, আর প্রকান্ড ঠান্ডার কারনে তা প্রায় অক্ষত অবস্থায় বরফের মধ্যে সমাধিত হয়ে থাকে। এটি এতটাই অক্ষত ছিল যে এর লিংগ কি তা বুঝতে কোন পরীক্ষা করা লাগে নি। শুধু মাত্র দেখেই বলা যায় যে এটির লিংগ কি। কি খুব জানতে ইচ্ছা করছে এই ম্যামথ পুরুষ না স্ত্রী। এটি স্ত্রী ম্য্যামথ। আর এর ওজন ১১০ পাউন্ড। আকার আকৃতিতে একটা বড় কুকুরের সমান।
এই বাচ্চা ম্যামথের নাম দেওয়া হয়েছে “ইওকা” (Yuka), কেন এই নাম দেওয়া হয়েছে? আসলে এই নাম দেওয়া হয়েছে এর আবিস্কারের স্থান “ইয়াকুতিয়া” (Yakutia) এর নামের উপর ভিত্তি করে।

ম্যামথরা বিলুপ্ত হল কি করে:

প্রাগৈতিহাসিক সুবিশাল লোমশ ও দাঁতাল হস্তি ম্যামথরা নাকি প্রায় ১০,০০০ বছর আগে মানুষের অতিরিক্ত শিকারের ফলে লোপ পায়৷ কিন্তু এ’অভিযোগ সত্য না’ও হতে পারে, বলছেন বিজ্ঞানীরা৷
ম্যামথ নামধারী ঐ দানবীয় দাঁতালদের ডাইনোসরদের পর্যায়ে ফেলার কোনো উপায় নেই৷ ম্যামথরা ‘প্রাক-ঐতিহাসিক’ হলেও, বস্তুত মানুষরা অক্ষর এবং লিপি আবিষ্কার করার অনেক পর অবধি তারা বেঁচে ছিল৷ শেষ তুষার যুগের আগে ইউরেশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে ম্যামথদের বড় বড় দল ঘুরে বেড়াতো৷ তার অনেক পরেও তাদের একটি দল সুমেরু সাগরের একটি দ্বীপে বেঁচে ছিল৷ দ্বীপটির নাম ব়্যাঙ্গেল আইল্যান্ড৷ আজ সেটি রুশ মালিকানায়৷

রেডিওকার্বন ডেটিং করে দেখা গেছে যে শেষ ম্যামথরা সম্ভবত খ্রীষ্টজন্মের ১,৭০০ বছর আগেও ঐ ব়্যাঙ্গেল আইল্যান্ডে বেঁচে ছিল৷ মানব ইতিহাস তার অনেক আগেই শুরু হয়ে গেছে৷

বিজ্ঞানীদের মনোযোগ গিয়ে পরে ব়্যাঙ্গেল আইল্যান্ডের ওপর৷ দ্বীপটি প্রায় ৯,০০০ বছর আগে অবধি একটি প্রাকৃতিক তুষারসেতুর মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল৷ ১২,০০০ থেকে ৯,০০০ বছরের মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সেই সেতুটি উধাও হয় এবং দ্বীপটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ এবং ব়্যাঙ্গেল আইল্যান্ডে মানুষের পদার্পণ ঘটে ম্যামথরা বিলুপ্ত হবার প্রায় ১০০ বছর পরে৷

বিজ্ঞানীদের নতুন অভিমতঃ

বৃহৎ আকারের শান্তশিষ্ট প্রানীটির বিলুপ্তি নিয়ে নতুন তথ্য নিয়ে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, খাবার পানির অভাবেই বড় আকারের লোমশ প্রাণী ম্যামথ প্রজাতিটির বিলুপ্তি ঘটেছে।

তথ্যটি অবাক হওয়ার মতোই। সেই বরফ যুগের শেষ দিকে যখন বরফ গলে চারিদেক মহাপ্লাবন তখন পানির অভাবে কোনো প্রাণী মারা যাবে তা মানতে কষ্টই হয়।

তবে ম্যামথের বেলায় কথাটি ভুল নয়। গবেষকরা বলছেন, আলাস্কার দুর্গম কিছু এলাকায় আজ থেকে সাড়ে ৫ হাজার বছর আগেও প্রজাতিটি ঘুরে বেরিয়েছে।

বেরিং সাগরের সেন্ট পল আইসল্যাণ্ডে যে প্রজাতির নমুনার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে সেগুলো বৈশ্বিক উষ্ণতায় বরফ ধ্বস, সাগরের উচ্চতা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মূল আবাসস্থল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

প্রায় ৫ হাজার বছর টিকে থাকার পর ক্রমান্বয়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে সাথে জলাধার গুলোতে পানি কমে যাওয়া ও অগভীর হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে তাদের তৃষ্ণা নিবারণ করাটা হুমকির মুখে পড়ে যায়। কারণ ধীরে ধীরে পানি কমে যাওয়ায় লেকের পাড় গুলো পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাদের মতো বিশাল শরীর ও ওজন নিয়ে পানি পান করে উঠে আসাটা ছিলো আত্মহত্যার মতোই।

আর এ কারণেই গবেষকরা বলছেন পানির অভাবে, পানিতে ডুবেই বিলুপ্ত হয় ম্যামথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.