অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যু, জানা যায়নি রোগের নাম

অজ্ঞাত রোগে মারা যাচ্ছে গরু। দুধের গ্রামখ্যাত তিলকান্দিসহ কয়েকটি এলাকায় এরই মধ্যেই মারা গেছে বেশ কিছু গরু। খামারিদের দাবি, ৭০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

তিলকান্দি এলাকার মানুষের জীবন জীবিকা এক সময় ছিল অনেক কষ্টের। পরবর্তীতে তারা শুরু করেন গাভী পালন। সময়ের ব্যবধানে দুধ বিক্রি করে লাভবান এসব খামারীর জীবনে ফিরে আসে স্বাচ্ছন্দ্য। এ এলাকায় গড়ে উঠে ছোট বড় ২৪৭টি দুগ্ধ খামার।

অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে খামারের বেশ কিছু গরু। প্রাণীসম্পদ বিভাগের লোকজনকে ডেকেও কোন সমাধান পায়নি খামার মালিকরা। উল্টো তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই। ফলে সঠিক চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে এসব খামারের গরুগুলো। এতে দিশেহারা এখানকার খামারীরা।

শেরপুর সদর উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের তিলকান্দি গ্রামের কোন খামারীর মারা গেছে তিনটি, কারো দুইটি, কারো বা মারা গেছে ১টি করে গরু। এর মধ্যে এক সুতার বাড়িতেই মারা গেছে ১৫টি গরু। কারো কারো শেষ সম্বল গরুর মৃত্যু হওয়ায় এখন তাদের সংসারে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে অভাব। ফলে অসহায় অবস্থায় দিন পার করছে এসব খামার মালিকরা। শুধু তাই না এখন খামারের অবশিষ্ট গরু রক্ষা নিয়েও রয়েছে আতঙ্ক। আবার ঋণ করে খামার করায় তা পরিশোধ করতেও রয়েছে দুশ্চিন্তায়।

শেরপুর সদরের উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কান্তি জানিয়েছেন, যেখানে এক বাড়িতেই মারা গেছে ১৫টি গরু সেখানে তাদের কাছে হিসেব আছে ৪টি গরু। বাকি গরু কিভাবে মারা গেছে কোনো সঠিক তথ্য তার কাছে নেই। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে অফিসের লোকবলের সংকটের কথা জানান।

শেরপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কিছুই জানা নেই। তবে দ্রুত তদন্ত করে গরু মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করবেন। তার অফিসের কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.