রায়েল ধর্ম – এলিয়েন হতে যে ধর্মের উৎপত্তি

উইকিপিডিয়ার সূত্র অনুসারে পৃথিবীতে প্রায় ৪,২০০ টি ধর্ম আছে।

তার মধ্যে ইসলাম,হিন্দু,খ্রিস্টান,বুদ্ধ,ইহুদি,শিখ ধর্মের অনুসারী বেশি… বাকি ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যা কম।
ঠিক তেমনই অল্প সংখ্যাক অনুসারীদের একটি ধর্ম হচ্ছে “রায়েল” ধর্ম, যে ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে ভিনগ্রহের প্রাণীদের কিংবা এলিয়েন দ্বারা।
কিভাবে ? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ক্লদ ভরিলহন ( Claude Vorilhon ) রায়েল ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা এবং ধর্মগুরু, যিনি ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সালে  ফ্রান্সের অ্যালিয়ারের অন্তর্গত ভিচি তে জন্মগ্রহণ করেন।
রায়েল ধর্ম প্রতিষ্ঠার আগে তিনি পেশায় ছিলেন একজন ক্রীড়া সাংবাদিক এবং সঙ্গীতশিল্পী।

তিনি নিজস্ব একটি রেসিং সাময়িকী বের করেন যার নাম ‘অটো পপ’।

১৯৭৩ সালে ১৩ ডিসেম্বর সকালে ফ্রান্সের কেন্দ্রস্থল ক্ল‍্যারমন্ট ফেরান্দ শহরে ক্লদ নিজের অফিসে যাচ্ছিলেন এবং তখনই হঠাৎ তার মন বদল হলো এবং অফিসের পরিবর্তে সে একটি আগ্নেয়গিরি যার নাম ” পুঁই-দ্যা-লাসোলো ” সেটার চূড়ায় উঠে গেলো।

সেখানে পৌঁছে ক্লদ সম্বিৎ ফিরে পেলো , তার এই মুহূর্তে এইখানে নয় বরং অফিসে থাকার কথা
যখন সে এই কথা ভেবে নেমে যাওয়ার চিন্তা করছিলো তখনই সে আকাশে একটা নীলাভ আলোর তীব্র ঝলকানি দেখতে পেলো।

ক্লদ অবাক দৃষ্টিতে দেখলো চকচকে রুপালি ধাতুর তৈরি কিছু একটি মাটিতে নেমে এলো এবং সেই বস্তু হতে নীলাভ আলো বিচ্ছুরণ হচ্ছিলো।

ক্লদ খুশি হয়ে গিয়েছিলো যে সে UFO দেখতে পেয়েছে এবং পাশাপাশি ভয় ও পাচ্ছিলো ইউএফও হতে এলিয়েন বাহির হয়ে যদি তাকে হত্যা করে, কিন্তু তবুও তার সাংবাদিক মন তাকে সেখানে থাকতে বাধ্য করলো।
অল্প সময় পরে ইউএফও হতে মানুষের মতন দেখতে কেউ একজন বাহির হলো, তার চেহারা এতটা মমতাময় ছিলো যে ক্লদ পালানোর কথা ভাবতে পারলো না, মানুষের আকৃতির এলিয়েন ক্লদের কাছে চলে আসলো।
ক্লদ এলিয়েনটিকে প্রশ্ন করলো ” তুমি কে,এবং তুমি কি চাও? ”
এলিয়েনটি তখন উত্তর দিলো : ” অনেক দূর থেকে এসেছি তোমার সাথে কথা বলতে ”

এইটা বলে সে ক্লদ কে তাদের ইউএফওর ভেতর নিয়ে পরবর্তী ছয়দিন ধরে কিছু তথ্য দিলো যা বৈপ্লবিক এবং সেটা হতেই রায়েল ধর্মের সৃষ্টি।

এলিয়েনটি জানালো : ” আমরাই মনুষ্যজাতি সৃষ্টি করেছিলাম কিন্তু তোমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তা ভেবে ভুল করেছিলে।
আমরাই তারা ছিলাম যারা পৃথিবীতে সকল ধর্ম শুরু করেছিলাম, কারণ তখন তোমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ লাভ করো নি।

আর এখন মানবজাতি এইটা বুঝতে সক্ষম হয়েছে যে বিজ্ঞানের ক্ষমতা কতটুকু, তাই আমরা চাই তুমি আমাদের জন্য একটি দূতাবাস তৈরি করো যেখানে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অবতরণ করতে পারি সবার সামনে।
অনেক লক্ষ বছর আগে আমাদের গ্রহ জ্ঞান-বিজ্ঞানে অত্যান্ত উন্নতি লাভ করে, তখন আমাদের গ্রহের বিজ্ঞানীরা প্রাণ সৃষ্টিতে হাত দেয়।

কিন্তু একদিন ল্যাবরেটরিতে কিছু সমস্যা দেখা দেয়।
এরপর সরকার এবং জনগনের রোষের মুখে বিজ্ঞানীরা অন্য গ্রহ খুঁজতে বাহির হয় যেখানে তারা তাদের এক্সপেরিমেন্ট করতে পারবে, তখন তারা পৃথিবী খুঁজে পায় যেটা প্রানের বিকাশের জন্য উপযোগী ছিলো।
অনেক প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ এবং পুঁথিতে এই সকল বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে বর্ননা করা হয়েছে।

বাইবেলে জেনেসিস অধ্যায় ১ স্তবক ১২ তে বলা হয়েছে : ” তারা পানিকে বিভক্ত করেছিলো, কিছু মহাকাশের নিচে ছিলো এবং কিছু উপরে “

Leave a Reply

Your email address will not be published.