অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া

বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো চাকরি পাওয়া। কষ্টকর হলেও সত্যি বর্তমানে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক যোগ্য প্রার্থীরাও চাকরি পাচ্ছে না। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হল বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে ব্যবসার দিকে অগ্রসর হওয়া। এবং মজার ব্যাপার হলো ইতিমধ্যেই বর্তমান তরুণ তা করতে চলেছে। এখনকার বেশিরভাগই তরুণ ব্যবসার দিকে অগ্রসর হচ্ছে যেটি আমাদের অর্থনীতির জন্য খুবই ইতিবাচক একটি বিষয়।কিন্তু ব্যবসা শুরু করার আগে সবচাইতে চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয় হল কি বিষয় নিয়ে ব্যবসা করবে তা নির্ধারন করা। কারণ যদি সঠিক বিষয় নিয়ে ব্যবসা করা না হয় তাহলে ব্যবসার লাভের তুলনায় ক্ষতির হিসাব টাই বেশি করতে হবে।তাই আজকের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব কিছু ব্যবসার আইডিয়া। যে ব্যবসা গুলো নতুনদের জন্য খুবই উপযোগী হতে চলেছে। তাহলে চলুন শুরু করি।

অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসার আইডিয়া

সভ্যতা ক্রমে অনলাইন নির্ভর হওয়া শুরু করেছেন। আজকে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত বেশিরভাগ কাজই অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্রমেই বাড়ছে মানুষের আনাগোনা। যতই মানুষের আনাগোনা বাড়তে তদই তৈরি হচ্ছে নানা ব্যবাসার আইডিয়া। এখন আপনাদের অনলাইন ভিত্তিক কিছু ব্যবসার আইডিয়া শেয়ার করব।

১) ফ্রিল্যান্সিং:- এই সময়ে এসে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সাথে পরিচিত নেই এমন মানুষেকে খুঁজেই পাওয়া যাবে না। কোন দক্ষতাকে বিক্রি করে টাকা আয় করাই মাধ্যমকেই ফ্রিল্যান্সিং বলে। এবং এই ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে সারা বিশ্বের মানুষের কাছে আপনি আপনার সেই দক্ষতা বিক্রি করে টাকা আয় করার সুযোগ আছে যেহেতু এটি সম্পূর্ণই অনলাইন ভিত্তিক। এবং আরেকটি মজার ব্যাপার হলো এই ব্যবসায় আপনাকে বড় অঙ্কের কোন টাকা বিনিয়োগ করতে হবে না কিন্তু রয়েছে কোটি টাকা লাভের সম্ভাবনা এই ব্যবসায়।

২) ব্লগিং:- নিজের ওয়েবসাইটে অথবা অন্য কারো ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে লিখালিখি করাই হলো ব্লগিং। এই যেমন আপনি লিখাটি একটি ব্লগেই পড়ছেন৷ এবং এই ব্লগে আমি লিখালিখি করি। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন এই ব্লগে কিছু এড বা বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে আপনাকে যা থেকে এই ব্লগের মালিক ইনকাম করে ৷ এড ছাড়াও আরো অনেক উপায়েই ব্লগ থেকে ইনকাম করা যায়৷

৩) ইউটিউব:- ইউটিউব হলো বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম। ইউটিউবে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিডিও দেখছে এবং নানা ভিডিও শেয়ারও করছে। এই জনপ্রিয়তা আমাদের ইনকামের বিশাল একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। চাইলে আপনি আজকেই একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলে ভিডিও আপলোড দিতে পারেন। ইউটিউব থেকে অনেক উপায়েই ইনকাম করতে পারবেন। কিছু কিছু ইউটিউব চ্যানেল আছে যেগুলো রীতিমতো একটি ব্র্যান্ড-এ পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশেও খুঁজলে এমন অনেক ইউটিউবার পাবেন যারা ইউটিউবের ভিডিও দিয়ে অনেক টাকা আয় করছে।

৪) ড্রপশিপিং:- আরেকটি জনপ্রিয় এবং প্রোফিটেবল অনলাইন বিজনেস আইডিয়া হলো ড্রপশিপিং। অন্যসব ব্যবসার মতোই ড্রপশিপিং শুধু পার্থক্য হলো আপনি ওয়ার্ড ওয়াইড ব্যবসা করতে পারেন ড্রপ শিপিং এর মাধ্যমে। এ নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট আছে আমাদের এই সাইটে৷

৫) এফ-কমার্স:- একটা সময় ছিল যখন আপনার কোন কিছু বিক্রি করতে হলে প্রয়োজন হতো একটি দোকান এবং দোকানকে আবার সুন্দর করে সাজাতেও হতো। কিন্তু এখন আপনি কোন দোকান ছাড়াই আপনার যেকোন পণ্য বিক্রি করতে পারেন ফেসবুকের মাধ্যমে। ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা গুলোকে বলে এফ-কমার্স। আপনার যেকোন পণ্য বা সার্ভিস নিয়ে আজই করতে পারেন এফ কমার্স বিজনেস শুধু মাত্র একটি ফেসবুক পেজ খুলে। যেহেতু ফেসবুক মানুষ বেশি ব্যবহার করে সেহেতু আপনার বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

৬) অনলাইন কোর্স:- Covid এবং লকডাউনের একটি প্রভাব হলো আমাদের পড়াশোনাও এখন অনলাইন ভিত্তিক হয়ে পড়েছে। তাই এখন অনলাইনে কোর্স করিয়েও অনেক জন অনেক টাকা আয় করে ফেলছে। আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ হন তাহলে সে বিষয়ে আপনিও কোর্স করিয়ে ভালো অংকের টাকা আয় করতে পারবেন।

৭) মোবাইল এ্যাপ :- আপনি প্রতিদিন কতগুলো মোবাইল এ্যাপ ব্যবহার করুন? অনেক এ্যাপই ব্যবহার করি আমরা আমাদের অনেক কাজের জন্য। আপনার প্রতিবার ব্যবহারের জন্য সেই এ্যাপ নির্মাতা কিন্তু কিছু পরিমাণ টাকা আয় করছে। এভাবে আপনিও চাইলে আপনার নিজের অ্যাপ বানিয়ে অনলাইন থেকে আয় করতে পারবেন।

৮) আপনার যদি ভালো লেখার দক্ষতা থাকে তাহলে আপনার জন্য এই বিজনেসটি হতে পারে খুব লাভজনক একটি ব্যবসা। বাজারে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে আপনি যেকোনো বিষয় নিয়েই লিখতে পারেন ই-বুক। তবে যে কোনো বিষয় নিয়েই লিখার আগে সে বিষয় নিয়ে পর্যাপ্ত রিসার্চ করে একটি স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে লিখতে হবে ই-বুক।

মনে রাখতে হবে, আপনার লেখায় এমন কিছু নতুনত্ব থাকতে হবে যা পাঠককে আকৃষ্ট করতে বাধ্য। ই-বুক পাবলিশ করার জন্য অনেক সাইটই রয়েছে যেখানে আপনার বুকটি পাবলিস করে ভালো অংকের টাকা আয় করতে পারবেন। এমনই একটি জনপ্রিয় ই-বুক পাবলিশিং প্লাটফর্ম হলো অ্যামাজনের কিন্ডল ডিরেক্ট পাবলিশিং।

৯)অনলাইন ফটো বিক্রি
আপনি কি ভালো ফটোগ্রাফি করতে পারেন তাহলে এই দক্ষতাকেই আপনার ব্যবসায় কাজে লাগিয়ে দেন। মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন কাজে অনলাইন থেকেই ছবি কিনে নিচ্ছেন প্রতিদিন। এমন কিছু কিছু ওয়েবসাইট আছে যেগুলো আপনার তোলা ছবি কিনে বিক্রি করে। সেরকম কিছু সাইট হলো:- আইস্টক, ফটোড্যুন, শাটারস্টক ইত্যাদি। এই সাইটগুলোর মাধ্যমে সরাসরি ফটো বিক্রি করতে পারবেন অনলাইনে।

১০.কন্টেন্ট রাইটিং
হতে পারে অনলাইন বিজনেস এর জন্য সেরা একটি আইডিয়া কন্টেন্ট রাইটিং । আপনার যদি কোন ভাষার উপর দক্ষতা থাকে তাহলে কটেন্ট রাইটিং আপনার জন্য ভালো একটি পেশা হতে পারে। খুব সহজ এবং সুন্দর ভাষায় লিখতে পারদর্শী হলে কন্টেন্ট রাইটিংকেই আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন।বাংলা এবং ইংরেজি যেকোন ভাষায় আপনার দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে।

১১. কাস্টম ডিজাইন টি-শার্ট
বর্তমানে নতুন প্রমোশনাল ক্যাম্পেইনের মাঝে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো টি-শার্ট। একটি সুন্দর টি-শার্ট ডিজাইন যেমন বিভিন্ন কোম্পানী অথবা এজেন্সির নিকট গুরুত্বপূর্ণ। তেমনি বিভিন্ন হ্যাং-আউটেওদ এবং গ্রুপেও এখন দরকারী। কোথাও যদি গ্রুপ করে ঘুরতে যাই অবশ্যই আমাদের সবার একই ডিজাইন টি-শার্ট চাই।আপনার ডিজাইন সেন্স যদি ভালো থাকে তাহলে শুরু করে দিতে পারেন এই টি-শার্ট ডিজাইন বিজনেস। এর পাশাপাশি আপনি চাইলে বিভিন্ন স্পোর্টস টি-শার্ট ইম্পোর্ট করেও অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন।প্রথমেই একটি ফেসবুক পেজ দিয়েই শুরু করে দিতে পারেন আপনার এই টি-শার্টের অনলাইন বিজনেস।

Leave a Comment