১৫ টি সেরা পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া–2022

যেকোন ব্যবসা শুরু করার আগে যেই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দরকার সেটি হলো সঠিক বিষয়টি সিলেক্ট করে নেওয়া । যদি সঠিক একটি বিষয়টি আপনি সিলেক্ট করে ফেলতে পারেন তাহলে বাকি রাস্তাটা আপনার কাছে অনেক সহজ মনে হবে৷ ঠিক যেমনটা বলি আমরা ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে, সবার আগে নিশ সিলেক্ট করে নিতে হয়। তাহলে চলুন আজকে দেখে আসি সেরা ১৫ টি পাইকারি ব্যবসার আইডিয়া। 

১) স্টেশনারি পণ্যের ব্যবসা:- স্টেশনারি পণ্য বলতে বুঝানো হয় খাতা, বই, কলম ইত্যাদি পণ্য গুলো। এই পণ্য গুলোর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে অফিস আদালত পর্যন্ত প্রায় সব জায়গায়-ই এই স্টেশনারি পণ্য গুলোর অনেক ব্যবহার রয়েছে। যাদের ইনভেস্টমেন্ট তুলনা মূলক কম তাদের জন্যই এই স্টেশনারি ব্যবসাটি সবচেয়ে ভালো হবে । কম ইনভেস্টমেন্টে এটি খুব ভালো লাভজনক একটি পাইকারি ব্যবসা হতে পারে। 

২)টি-শার্টের ব্যবসা:- যেকোন পণ্য সিলেক্ট করে নেওয়ার আগে আপনাকে চিন্তা করতে হবে সেই পণ্যের বাজারে চাহিদা কেমন? আপনি একটু ভেবে দেখুন তো টি-শার্টের চাহিদা কেমন? পৃথিবীতে যত দিন মানুষ বেঁচে থাকবে ততদিনই থাকবে টি-শার্টের এই চাহিদা। টি-শার্ট ডিজাইন হলো টি-শার্ট বিজনেসের মেইন পয়েন্ট । যার ডিজাইন যত বেশি সুন্দর এবং ইউনিক হয় তার টি-শার্টের সেলের পরিমাণ তত বেশি হবে। এক্ষেত্রে অনেকেই ক্রেতারদের থেকে অর্ডার দিয়ে নিজেদের মনের মতো কাস্টমাইজড টি-শার্ট বানিয়েও সেল করতে পারে। 

৩) কসমেটিকস সামগ্রীর ব্যবসা:- নারীদের সাজসজ্জার জন্য বর্তমান সময়ে কসমেটিকস সামগ্রির বাজারে প্রচুর চাহিদা তৈরি রয়েছে। আর প্রতিদিনই নিত্য নতুন কসমেটিকস পণ্য বাজারে আসছে আর এই সব পণ্যের চাহিদার সাথে সাথে ক্রমেই দামও বেড়ে চলেছে। আবার অনেক নারীরাই সচেতন কসমেটিকস পণ্য কেনার ব্যাপারে।তারা বেশি দাম দিয়ে ভালো পণ্যটি কিনতে রাজি।  তাই আপনি যদি ভালো মানের পণ্য দিতে পারেন এই কসমেটিকস ব্যবসায় অনেক অনেক ভালো করতে পারবেন। 

৪) জিন্স প্যান্ট ও শার্টের ব্যবসা:- বাংলাদেশের সব চেয়ে বহুল জনপ্রিয় হলো শার্টের এবং প্যান্টের পাইকারি ব্যবসা।অনেকেই লাখ লাখ টাকা পকেটে ডুকিয়েছেন এখন পর্যন্ত এই ব্যবসা করে । তাছাড়াও বাজারে জিন্স পেন্ট এবং টি-শার্টের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এই ব্যবসায় আসতে হলে আপনাকে ভালো অংকের টাকা ইনভেস্ট করতে হবে। 

৫) সেলোয়ার-কামিজ ব্যবসা:- বর্তমানে বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে সেলোয়ার-কামিজ বেশ জনপ্রিয় । তাছাড়াও নারীদের চাহিদার উপর ভিত্তি করে বাজারে চলে এসেছে নানা রকমের সেলোয়ার-কামিজ এবং দামের মধ্যেও আছে ভিন্নতা । একটা সময় সেলোয়ার-কামিজের দাম ছিল সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা কিন্তু বর্তমানে ১০,০০০ টাকার পর্যন্ত সেলোয়ার-কামিজ আছে। বেশিরভাগ ডিমান্ড রয়েছে রেডি-মেইড থ্রি পিজের । যদি উন্নত মানের এবং সুন্দর ডিজাইনের পণ্য দিতে পারেন তাহলে এটি একটি প্রচুর  সম্ভাবনাময় বিজনেস হতে পারে। 

৬) জুতার পাইকারি ব্যাবসা:- আমাদের প্রতিদিনের  প্রয়োজনীয় আরেকটি পণ্য হচ্ছে জুতা। চিন্তা করুনতো মানুষ যতদিনই এই পৃথিবীতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত জুতার চাহিদা থাকবেই । তাই আপনি ভালো ক্যারিয়ার গঠন করতে পারবেন জুতার পাইকারী ব্যাবসা করে । এই পাইকারী ব্যবসার একটি ভালো দিক হলো এখানে আপনি আরেকটু বেশি ইনভেস্টমেন্ট দিয়ে নিজেই জুতা তৈরি করে নিজেই  বিক্রি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার মুনাফাও বেশি আসবে । 

৭)খেলনার ব্যাবসা:- পৃথিবীর প্রতিটি বাচ্চার শৈশব কাটে খেলনার সাথে৷ আমি আপনি আমরা সবাই জীবনে কখনো না কখনো খেলনা দিয়ে খেলেছি। বর্তমান শপিং কমপ্লেক্স গুলোতে গেলে দেখতে পারবেন কেমন জাঁক জমক ভাবে সাজানো খেলনার দোকান গুলো। প্রতিটি শিশুই খেলনা কিনতে চাই। তাই খেলনার প্রচুর চাহিদাও রয়েছে বাজারে। আপনি চাইলে খুব অল্প বিনিয়োগে খেলনার পাইকারি ব্যাবসা শুরু করতে পারবেন। 

৮) কাঁচা পণ্যের ব্যাবসা:- প্রতিদিনই আপনার বাসায় বাজার করা হয়, তাই না? তরি তরকারি অথবা অন্য কাঁচা বাজার কেনা হয়। আমরা বাজার থেকে কিনে আনি এসব তরি তরকারি গুলো কিন্তু বাজারে যারা খুচরা বিক্রেতা তারা এগুলো কিনে আনে বিভিন্ন আরতদার থেকে৷ যারা এসব পণ্যের পাইকারি ব্যাবসা করে, অর্থাৎ যারা সরাসরি কৃষকদের থেকে কিনে আনে এসব পন্য তারাই আরতদার। আপনিও চাইলে এই কাঁচা পণ্যের পাইকারি ব্যাবসাও করতে পারেন কিন্তু এই ব্যাবসায় আপানকে বড় অংকের ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আসতে হবে৷ যেহেতু কাঁচা পণ্য তাই পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যার কারণে এগুলোকে সঠিক ভাবে সংরক্ষণও করা লাগবে। 

৯) মুদি পণ্যের ব্যাবসা:- আমাদের বাসার আশেপাশে অনেক মুদি দোকানই আছে। এবং আমরা প্রায় সময় নানা জিনিসপত্র কেনার জন্য এসব মুদি দোকানে যায়৷ আর এই মুদি দোকানদারেরা তাদের এসব পণ্য কেনার জন্য যায় মুদি পণ্যের পাইকারি দোকানদারের কাছে। আপনিও পাইকারিতে বিক্রি করতে পারেন চাইলে মুদি পণ্য গুলো । এক্ষেত্রে আপনাকে ডিমান্ডেবল পণ্য গুলো বাছাই করে তারপর বিক্রি করতে হবে এবং ভালো অংকের ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে। 

১০) গিফট আইটেমের ব্যাবসা:- পৃথিবীতে প্রতি দিনই কোন না কোন মানুষের জন্মদিন বা কোন না কোন অনুষ্ঠান হয়েই চলেছে। অনেকেই এসব অনুষ্ঠানে দেওয়ার জন্য উপহার কিনে। তাই বর্তমানে গিফট আইটেমের চাহিদাও অনেক ভালো। আপনি চাইলে অল্প ইনভেস্টমেন্টই গিফট আইটেমের পাইকারী ব্যাবসা শুরু করতে পারেন৷ 

১১) খাবার পণ্যের ব্যাবসা:- খাবারে চাহিদা পৃথিবীতে  থাকবেই।  এটি কখনোই শেষ হবে না। আপনি নানা ধরনের খাবার কিনেন প্রতিদিনই দোকান থেকে । এসব খাবার গুলোর মধ্যে বিস্কুট,চানাচুর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আপনি এসব খাবারের পণ্যের ব্যাবসাও করতে পারেন। তবে খাবার পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার একটি আশঙ্কা থাকে তাই এগুলোকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা লাগবে । তার জন্য প্রয়োজন বিশাল অংকের ইনভেস্টমেন্টের।

১২) ইলেক্ট্রনিক পণ্যের ব্যাবসা:- ইলেক্ট্রিসিটি হলো আমাদের জীবনের দৈনন্দিন একটি বিষয়। যা ছাড়া আমরা একটি মূহুর্তও চলা সম্ভব না। বাজারেও ইলেক্ট্রনিক পণ্যের বেশ চাহিদা আছে। বাজারে অনেক রকমের ইলেক্ট্রনিক পণ্য রয়েছে। আপনি সেসব পণ্য নিয়ে পাইকারি ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কিন্তু ইলেক্ট্রনিক পণ্যগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এই ব্যবসায় ইনভেস্টমেন্টও বেশি দরকার হয়।

১৩) ফার্ণিচারের ব্যাবসা:- ফার্ণিচার আমাদের প্রত্যেকের ঘরেই কম বেশি আছে । এই ফার্ণিচার গুলো আমাদের সবারই দরকার হয়। বাজারে এসব ফার্ণিচারেরও রয়েছে চড়া দাম।যদি আপনি ফার্ণিচারের ব্যাবসা করতে চান, তাহলে আপনাকে প্রথমে একজন ফার্ণিচারের মিস্ত্রি দিয়ে নিজের ফার্ণিচার বানিয়ে নিতে হবে তারপরে সেগুলো খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু এই ব্যাবসায় বিশাল অংকের টাকা নিয়ে শুরু করতে হবে কারন এটি খুব ব্যায় বহুল ব্যবসা। 

১৪) চকলেটের পাইকারি ব্যাবসা:- আমাদের শুভ কাজ বা প্রিয় মানুষদের আমারা সব সময়ই চকলেট দিয়েই শুভ কামনা জানায়৷ গিফট আইটেমের পাশাপাশি নানা রকম উৎসবে চকলেটের চাহিদাও কম নয়। বলতে গেলে চকলেটও এক প্রকারের গিফ্ট। বেশিরভাগ চকলেট বিদেশ থেকেই ইমপোর্ট করা হয়। আপনি বিদেশ থেকে চকলেট এনে দেশে পাইকারি ব্যাবসা শুরু করতে পারেন। এটি খুব লাভজনক একটি ব্যবসা

১৫) ফলের পাইকারী ব্যাবসা:- আমাদের স্বাস্থ্যের পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য ফলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ফলের ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে আমাদের দেশে। সরাসরি ফল চাষীদের কাছ থেকে ফল কিনে নিয়ে তারপরে তা বাজারে পাইকারি দামে বিক্রি করা যায়। তবে বিশাল সংখ্যাক ফল সংরক্ষণ করা খুবই ব্যায় বহুল কাজ । এবং যদি ফল সঠিক ভাবে সংরক্ষণ না করা হয় তাহলে সেগুলো পঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উপরের আলোচনা থেকে এতক্ষনে আপনি হয়ত আপনার ব্যাবসার বিষয়টি খুজে পেয়েছেন।কিন্তু যদি না পেয়ে থাকেন তাহলে এ বিষয় নিয়ে আরো রিসার্চ করুন। আশা করি আপনি আরো ভালো আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

Leave a Comment