টমেটোর উপকারীতা এবং পুষ্টিগুণ

টমেটো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ সবজি। কেউ কেউ টমেটোকে ফলহিসেবেও আখ্যায়িত করে থাকে। টমেটোতে ভিটামিন এ,সি, কে রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন বিঙ, থায়ামিন, ফোলেট রয়েছে। টমেটো পটাশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও কপারেরভালো উৎস। এতে প্ৰচুর ফাইবার ও প্ৰোটিন রয়েছে।

লাইকোপেন নামের গুক্লুত্বপূৰ্ণ উপাদান রয়েছে বলে টমেটোর স্বাস্্য উপকারিতাও অনেক। প্ৰতি ১০০ গ্ৰাম টমেটোতে খাদ্যশক্তি ১৮ ক্যালরি, জিঙ্ক ০.১৭ মিলিগ্ৰাম, ম্যাগনেশিয়াম ১১ মিলিগ্ৰাম, ফসফলৰরাস ২৪ মিলিগ্ৰাম, সোডিয়াম ৫ মিলিগ্ৰাম, ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্ৰাম, পটাশিয়াম ২৩৭ মিলিগ্ৰাম, ভিটামিন সি ১৩ মিলিগ্ৰাম, লাইকোপেন ২৫৭৩ মাইক্ৰোগ্ৰাম, কোলেস্টেরল ০ গ্ৰাম, ফাইবার ১.২ মিলিগ্ৰাম, আমিষ ০.৯ মিলিগ্ৰাম, শৰ্করা ৩.৯ গ্ৰাম, ভিটামিন সি ১৩ মিলিগ্ৰাম রয়েছে। এবার আসুন জেনে নেই টমেটোৱর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পৰ্কে।

 

  • ভরপুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

টমেটোতে বয়েছে প্ৰচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও লাইকোপেন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  রোগ প্ৰতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং লাইকোপেন ত্বক, কোলন, স্তন, পাকস্থলীর ব্যাল্সার দূর করতে সহায়তা করে। ভিটামিন ও মিনারেলস এর ভালো উৎস একটি টমেটো থেকে দৈনন্দিন চাহিদার ৪০ ভাগ ভিটামিন সি পাওঁয়া যায়। ভিটামিন সি শরীরের রোগ সারাতে ও ক্যাল্সার প্ৰতিরোধেও ভূমিকা রাখে। এতে ভিটামিন এ, পটাশিয়াম ও

আয়রনের পরিমাণও প্ৰচুর। নাৰ্ভ সিস্টেমের বরক্ষণাবেক্ষণে পটাশিয়াম সাহায্য করে এবং স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে আয়রন সহায়তা করে। ভিটামিন কে বরক্ত পড়া বন্ধসহ আরো অনেক উপকার করে থাকে।

 

  • হাৰ্ট ভালো রাখে

টমেটোতে থাকা লাইকোপেন হাৰ্টের যাবতীয় সমস্যা দূর করে।প্ৰতিদিন টমেটো খেলে বরক্তের কোলেস্টেরল দূর হয় এবং রক্ত পরিষ্কার থাকে। টমেটোতে পটাশিয়াম ফোলেট, ভিটামিন সি, নায়াসিন, ফাইবার থাকার কারণে হাৰ্ট ভালো থাকে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। তাছাড়া টমেটোতে থাকা বিঙ হাৰ্টের জন্য উপকারী উপাদান।

 

  • দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে

টমেটোতে বয়েছে প্ৰচুর ভিটামিন এ। ভিটামিন এ চোখ ভালো রাখে, চোখের জ্যোতি বাড়ায়, রাতকানা রোগ প্ৰতিরোধ করে। যাদের ভিটামিন এ এর অভাব থাকে তারা নিয়মিত টমেটো খেলে ঘাটতি পূরণ হয়।

এছাড়া সকল প্ৰকার নেতিবাচকতা দূর করে শারীরিক অবস্থা ভালো বরাখতে সহায়তা করে টমেটো। এতে থাকা লাইকোপিন,লুটেইন চোখে স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

 

  • হজমে সহায়তা

টমেটো হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়রিয়া প্ৰতিরোধ করে। শরীর থেকে সকল বিষাক্ত পদাৰ্থ দূরীকরণসহ জন্ডিস প্ৰতিরোধে টমেটোর ভূমিকা অগ্ৰগণ্য। এতে থাকা প্ৰচুর আঁশ কোষণ্ঠকাঠিন্যের সকল উপসৰ্গ দূর করে। টমেটো পাকস্থলী ভালো বরাখে এবং পাকস্থলীর কব্যান্সার থেকে রক্ষা করে।

 

  • ওজন কমায়

ওজন কমাতে সাহায্য করে টমেটো। টমেটো শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। টমেটোতে অল্প পরিমাণের সোডিয়াম ও উচ্চ মাত্ৰার ফাইবার আছে। দীৰ্ঘক্ষণ পেট ভবা রাখতে সহায়তা করে টমেটো, ফলে ক্ষুধা লাগে না। তাছাড়া টমেটো খেলে শরীর শক্তি ফিরে পায় এবং দূৰ্বলতার হাত থেকে রক্ষা পায়।

 

  • কোলেস্টেরলের মাত্ৰা নিয়ন্ত্ৰণ

টমেটো ক্ষতিকর কোলেস্টরেলের মাত্ৰা নিয়ন্ত্ৰণ করে। কারণ টমেটো ও এর জুস এ রয়েছে প্ৰচুর পরিমাণে ফাইবার যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। তাই প্ৰতিদিন টমেটো খাওয়া উচিত অথবা টমেটোর জুস পান করা উচিত।

  • ত্বকের যত্নে টমেটো

টমেটো ত্বক ভালো রাখে। ত্বককে করে দাগমুক্ত ও উজ্জ্বল। তাই রোজ টমেটো খাওয়া উচিত। তবে টমেটোর জুস খেলে ত্বকের বেশি উপকার হয়। এটি ব্ৰণ দূর করতে, বয়সের ছাপ দূর করতে, চামড়া টান টান করতে, রোদে পোড়ার ভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া দাত, চুল,হাড় সবকিছুর উপকার করে সুস্বাদু সবজি টমেটো।

 

  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্ৰণ

আমেৱরিকার মেডিক্যাল আ্যাসোসিয়েশনের এক প্ৰতিবেদনে বলা হয়েছে, রোজ টমেটো খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্ৰণে থাকবে। রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে এর ভূমিকা অগ্ৰগণ্য। টমেটোতে থাকে ক্ৰোমিয়াম যা রক্তে শৰ্করা বা চিনির পরিমাণ বাড়তে বাধা দেয়। তাই আপনার পরিবারে কারো যদি ডায়াবেটিস থেকে থাকে তাহলে তাকে রোজ টমেটো খাওয়ার পরামৰ্শ দিন।

Leave a Comment